বেইজিংয়ে কর্মকর্তাদের দাবি

মার্কিন কৃষি ও জ্বালানিপণ্য ছাড়াই টিকতে পারবে চীন

চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে দেশটি।

চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে দেশটি। মার্কিন কৃষি ও জ্বালানিপণ্য ছাড়াও তারা টিকে থাকতে পারবে। খবর এফটি।

চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের ডেপুটি-চেয়ার ঝাও চেনশিন বলেন, ‘নিজস্ব কৃষি ও জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বাদ দিয়ে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি আমাদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি মার্কিন পশুশস্য ও তেলবীজ নাও কিনি, তবু আমাদের শস্য সরবরাহে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।’

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঝাও চেনশিন এ মন্তব্য করেন। যেখানে শীর্ষ চীনা নীতিনির্ধারকরা দেশের অর্থনীতি নিয়ে আশ্বস্ত করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব মোকাবেলায় অতিরিক্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

ঝাও জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত কৃষিপণ্য প্রধানত পশুখাদ্য, যা সহজেই বিকল্প পণ্য দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য। যদি কোম্পানিগুলো মার্কিন জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা আমদানি বন্ধ করে দেয়, তবু চীনের জ্বালানি সরবরাহে সীমিত প্রভাব পড়বে।

চীনা বাজার হারানো মার্কিন কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে। ২০২৩ সালে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য চীনে রফতানি করেছিলেন তারা। একই বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লা চীনে পাঠানো হয়।

চীনে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এগিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে যেখানে চীনের খাদ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা ছিল ২০ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা নেমে আসে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে। এদিকে একই সময়ে ব্রাজিলের হিস্যা ১৭ দশমিক ২ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ২ শতাংশে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ বাড়লেও চীন বারবার আলোচনা চলমান থাকার মার্কিন দাবি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকেও আলোচনা নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ চোখে পড়ছে না। গত সপ্তাহে চীন ইঙ্গিত দিয়েছিল, বাণিজ্য আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আরোপিত শুল্ক বাতিল করতে হবে।

মার্কিন-চীনা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ১০০ শতাংশেরও বেশি হওয়ায় এরই মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য কমতে শুরু করেছে। ফলে চীনা কিছু কারখানায় কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়েছে।

আরও